কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াত–বিএনপি সংঘর্ষ | শিবির সভাপতি সহ উভয়পক্ষের আহত অন্তত ৭
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় নির্বাচনী জনসভা শেষে ফেরার সময় জামায়াত ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, জনসভা শেষে পিকআপে করে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরা তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা শিবির সভাপতি'সহ জামায়াতের কর্মী রবিউল হোসেন, জাকারিয়া রাসেল, রাসেল এবং উপজেলা ছাত্রশিবিরের নেতা রিফাত সানি আহত হন।
অন্যদিকে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, জনসভা শেষে জামায়াত ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা হাটবাইর গ্রামে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালান। এতে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিরোধে গেলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সোলেমান চৌধুরী, তাঁর গাড়িচালক মামুনসহ তিনজন আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জনসভা শেষে ফেরার সময় হাটবাইর এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় একটি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন বলেন, বিএনপির কয়েকজন নেতা আগে থেকেই এলাকায় অবস্থান নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। প্রতিবাদ জানাতে গেলে সংঘর্ষ হয় এবং তাঁদের চারজন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হন। তাঁর দাবি, হামলাটি পরিকল্পিত ছিল।
অন্যদিকে আহত বিএনপি নেতা সোলেমান চৌধুরী বলেন, জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরাই পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং এ সময় নারীরাও মারধরের শিকার হয়েছেন।
চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ছানা উল্লাহ জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন